চট্টগ্রাম রবিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  1. সর্বশেষ
  2. ধর্ম ও জীবন

বদরের ময়দানে মহানবীর (সা.) দোয়া

প্রতিবেদক
admin
২১ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

ওমর ফারুক ফেরদৌস ::

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, বদর যুদ্ধের দিন মহানবী মুশরিক বাহিনীর দিকে তাকিয়ে দেখলেন তারা সংখ্যায় মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের সৈন্য ছিল এক হাজার আর মহানবীর (সা.) সঙ্গীরা ছিলেন তিন শত দশজনের কিছু বেশি।

 

তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিবলার দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তা দান করুন যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হে আল্লাহ! যদি গুটিকয় মুসলমানের এই ক্ষুদ্র দলটি আপনি ধ্বংস করে দেন, তাহলে জমিনে আপনার ইবাদত করার আর কেউ থাকবে না।…

 

 

আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘক্ষণ এভাবেই কিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে ফারিয়াদ করতে থাকলেন। এক পর্যায়ে তার উভয় কাঁধ থেকে চাদর গড়িয়ে পড়ে গেল।

 

তখন আবু বকর (রা.) চাদর উঠিয়ে তার কাঁধে তুলে দিলেন এবং পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার রবের কাছে যথেষ্ট ফরিয়াদ করা হয়েছে। আপনার সঙ্গে আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই তিনি পূর্ণ করবেন।

 

 

আল্লাহর তাআলা তার ওয়াদা সত্যিই পূর্ণ করেছিলেন। বদরের ময়দানে মুসলমানদের ক্ষুদ্র বাহিনীর সাহায্যে নেমে এসেছিল ফেরেশতারা। মুশরিকদের বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়েছিল।

 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, স্মরণ কর যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন, আমি তোমাদেরকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব। (সুরা আনফাল: ৯) (সহিহ মুসলিম: ৫/১৫৬)

 

বদরের যুদ্ধ ছিল মহানবী (সা.) ও তার সাহাবিদের প্রথম বড় যুদ্ধ। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান বদর প্রান্তরে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

এ যুদ্ধে মুসলমানরা অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যার বিচারে মক্কার কাফেরদের চেয়ে বেশ দুর্বল ছিল। মক্কার কাফেরদের বাহিনীতে ছিল এক হাজার যোদ্ধা যারা সবাই উন্নত অস্ত্র-শস্ত্রে সুসজ্জিত ছিল। বিপরীতে মুসলমানদের বহিনীতে ছিল মাত্র ৩১৩ জন যোদ্ধা, সবার হাতে অস্ত্রও ছিল না। এরপরও আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহায্যে মুসলমানরা বিজয় লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার হবে। (সুরা আলে ইমরান: ১২৩)

 

বদর ‍যুদ্ধে মক্কার কাফেরদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাসহ ৭০ জন সৈন্য নিহত হয়, ৭০ জন বন্দী হয়। নিহত নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে ছিলেন আবু জাহল (আমর ইবনে হিশাম),উতবা ইবনে রাবিআ, উমাইয়া ইবনে খালাফ, শায়বা ইবনে রাবিআ, ওয়ালিদ ইবনে উতবা প্রমুখ। বন্দীদের মধ্যে ছিলেন উকবা ইবনে আবু মুঈত, সুহাইল ইবনে আমর, আবুল আস প্রমুখ।

 

 

বিপরীতে নবীজির (সা.) ১৪ জন সাহাবি শাহাদাতের গৌরব লাভ করেন। তাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন মুহাজির অর্থাৎ মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী সাহাবি, আটজন ছিলেন আনসার অর্থাৎ মদিনাবাসী সাহাবি।

 

মুহাজির ছয়জন হলেন: ১. হজরত মাহজা ইবনে সালেহ (রা.), ২. হজরত উবায়দা ইবনে হারেস (রা.), ৩. হজরত উমায়ের ইবনে আবি ওয়াককাস (রা.), ৪. হজরত আকিল ইবন বুকায়র, (রা.) ৫. হজরত উমায়ের ইবনে আবদে আমর, (রা.) ৬. হজরত সাফওয়ান ইবনে ওয়াহাব (রা.)।

 

আনসার আটজন হলেন: ১. হজরত সাদ ইবনে খায়সামা (রা.), ২. হজরত মুবাশশির ইবনে আবদিল মুনযির (রা.), ৩. হজরত ইয়াজিদ ইবনে হারেস (রা.), ৪. হজরত উমায়ের ইবনে হাম্মাম (রা.), ৫. হজরত রাফে ইবনে মুআল্লা (রা.), ৬. হজরত হারেস ইবনে সোরাকা (রা.), ৭. হজরত মুওয়ায়িজ ইবনে হারেস (রা.), ৮. হজরত আওফ ইবনে হারেস (রা.)।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত ইগল হাসপাতালে

ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের পণ্য

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনিশ্চয়তা

খাতুনগঞ্জে কমেছে চিনির দাম 

এলো অ্যাপল-অ্যান্ড্রয়েডে ফাইল শেয়ারের সুবিধা

পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসে কেন

কারাগারে অসুস্থ হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীরের ঢামেকে মৃত্যু

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ওভারে জয়, সিরিজে সমতা বাংলাদেশের

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: প্রেস সচিব

এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে মোহাম্মদ ইসমাইলের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত

বিনিয়োগ-উৎপাদনই টেকসই পথ, ঋণ নির্ভরতা নয়: আমির খসরু