
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ::
বর্তমান প্রযুক্তির দুনিয়া দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইমুখী হয়ে উঠছে। সেই স্রোতে সবচেয়ে আক্রমণাত্মকভাবে এগোচ্ছে মেটা। যুগ বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোম্পানিটি এখন তার পুরো কর্মীবাহিনীকেই জানিয়ে দিচ্ছে চাকরিতে টিকে থাকতে হলে, উন্নতি করতে হলে, এমনকি প্রতিদিনের কাজে পারফর্ম করতে হলেও এআই ব্যবহার আর বিকল্প নয়, বরং বাধ্যতামূলক বাস্তবতা।
মেটার অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময় তাদের এআই-দক্ষতা ও এআই ব্যবহারের প্রভাব সরাসরি বিবেচনায় নেওয়া হবে। শুধু কাজ করা নয় কাজ কীভাবে আরও দ্রুত, আরও উন্নতভাবে করা হলো, সেখানে এআই কীভাবে সাহায্য করল সবটাই মূল্যায়নের অংশ হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে মার্কেটিং, ডিজাইনসহ প্রতিটি বিভাগকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা কীভাবে এআই ব্যবহার করে নিজের কর্ম-প্রক্রিয়া উন্নত করেছে তা স্পষ্টভাবে জানাতে।
এরই মধ্যে মেটা বড় ধাপে এআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্ট ল্যাবস’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে, যেখানে তারা এমন ধরনের উন্নত এআই নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের সমান বা তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ জনবলও নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে অটোমেশনের মাধ্যমে এমন কিছু ভূমিকা বাদ দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো এআই দিয়ে সহজেই পরিচালনা সম্ভব এ কারণে কোম্পানির বিভিন্ন ইউনিটে ছাঁটাইও হয়েছে।
মেটার অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত এআই টুল ‘মেটামেট’ এরই মধ্যে কর্মীদের রিভিউ লেখায় সহায়তা করছে। এই টুল কর্মীর কাজ, প্রোজেক্ট, ডকুমেন্টেশনের সারাংশ তৈরি করে দেয়, যদিও অনেক কর্মী এখনো এর নির্ভুলতা নিয়ে নিশ্চিত নন। তবে কোম্পানির বার্তাটা স্পষ্ট এআই ব্যবহার শিখতে হবে, কাজে লাগাতে হবে এবং এটিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
অন্যদিকে, গ্রাহকদের জন্যও আরো উন্নত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে মেটা। তাদের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী এআই সহকারী তৈরি করা, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেটাভার্স, অনলাইন বিজ্ঞাপনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই কেন্দ্রীয় ভূমিকা গ্রহণ করবে।
তবে এই অগ্রগতি বিতর্কহীন নয়। গত বছর মেটার এআই চ্যাটবট কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে অশালীন কথোপকথন করেছে এমন অভিযোগ উঠে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কোম্পানিটি। এরপরই মেটা জানায়, তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং ভবিষ্যতে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেটার পুরো রূপকল্পই এখন একবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে এআই। কোম্পানির লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি উন্নয়ন নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি বিভাগ ও কর্মীর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা। ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে দ্রুত পরিবর্তন আনতে এটাই মেটার বড় বাজি।
সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ