চট্টগ্রাম রবিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  1. সর্বশেষ

ডাইনিবিদ্যা নয় নারীবাদ, ক্ষমতায়ন ও বিদ্রোহে লাল লিপস্টিক

প্রতিবেদক
admin
২৩ নভেম্বর ২০২৫, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

Link Copied!

ঠোঁটের যত্ন নেয় না কে? ঠোঁট সুন্দর করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ উপাদানটি হলো লিপস্টিক। নারীরা তো বটেই প্রয়োজনে পুরুষরাও ‘ওষ্ঠরঞ্জনী’ ব্যবহার করে থাকেন।

ঠোঁটের যত্ন নেয় না কে? ঠোঁট সুন্দর করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ উপাদানটি হলো লিপস্টিক। নারীরা তো বটেই প্রয়োজনে পুরুষরাও ‘ওষ্ঠরঞ্জনী’ ব্যবহার করে থাকেন। পৃথিবীতে নানা রঙের, নানা শেডের, নানা ব্র্যান্ডের লিপস্টিক আছে। এর মধ্যে কোনোটি খুব দামি, কোনোটি খুব নামি। কোনোটির আছে দীর্ঘ ইতিহাস। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো জনপ্রিয় (ও প্রয়োজনীয়) প্রসাধনীটিকে একসময় ডাইনিবিদ্যার অনুষঙ্গ মনে করা হতো।

একটি ছোট টিউব। বাহ্যিকভাবে নিরীহ। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় এক আগ্রহজাগানিয়া চিত্র। এ টিউবের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সমাজের ভয়, ধর্মের নিয়ন্ত্রণ, রাজনীতির প্রতিরোধ এবং নারীর আত্মপরিচয়ের দীর্ঘ লড়াই। আজ আমাদের যে লিপস্টিক নির্দ্বিধায় ঠোঁটে ছোঁয়ানো হয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেটিই ছিল নিষিদ্ধ, সন্দেহজনক এবং কখনো কখনো মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির কারণও। এক্ষেত্রে সন্দেহের তালিকায় ছিল লাল লিপস্টিক।

সামাজিক অনুশাসন আর সৌন্দর্যের এ যাত্রা বোঝার জন্য আমাদের ফিরতে হবে অতীতে। সেখানে লিপস্টিক কেবল রঙ নয়, ছিল বিপ্লব।

প্রাচীন গ্রিসে লাল ঠোঁট যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। যদি তারা জনসমক্ষে তাদের নির্ধারিত ঠোঁটের রঙ (যা তৈরি হতো মালবেরি, সি-উইড, ভেড়ার ঘাম, এমনকি কুমিরের বিষ্ঠার মতো উপাদান থেকে) ছাড়া উপস্থিত হতেন, তাহলে ‘সম্মানিত নারীর ছদ্মবেশ ধারণের অপরাধে’ শাস্তির ঝুঁকি ছিল। সারা ই. শ্যাফার তার Reading our Lips: The History of Lipstick Regulation in Western Seats of Power এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

রোমান সাম্রাজ্যে বিষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি কমে যায়। কিন্তু মধ্যযুগে আবারো কঠোর আইন জারি করা হয়। সে সময়কার চার্চের উপদেশে বলা হতো নারী যদি নিজের মুখমণ্ডলকে পরিবর্তন করেন, তবে তিনি ঈশ্বরকে প্রতারণা করছেন। লাল লিপস্টিক ছিল সে প্রতারণার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কারণ বিশ্বাস ছিল এটি পুরুষকে মোহিত করতে পারে, মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি ‘আত্মাও বন্দি করতে পারে’। এ ধারণাগুলো আজ হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু তখন সমাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এমন ভীতিকর গল্পই ছিল সাধারণ অস্ত্র।

ইউরোপের মধ্যযুগ (পঞ্চম-পঞ্চদশ শতাব্দী) ছিল ধর্মীয় কঠোরতা, অন্ধবিশ্বাসের যুগ। এ সময়ের আলাপে নানা সময়েই মধ্যযুগীয় বর্বরতা, অন্ধকার যুগ কথাগুলো আসে। এ সময়ে নারীও ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত। একে নারীর প্রতি অবিশ্বাসের যুগও বলা চলে। সেই সঙ্গে এ সময় লাল রঙকে দেখা হতো শয়তান, রক্ত, প্রলোভন এবং অপরাধের প্রতীক হিসেবে। ফলে ঠোঁটে লাল রঙ মাখা নারীদের সমাজ ভাবত ‘অস্বাভাবিক’, ‘ধর্মবিরোধী’ কিংবা আরো ভয়ংকর—‘ডাইনি’।

কিন্তু লাল লিপস্টিক বা ওষ্ঠরঞ্জনীর ইতিহাস আরো পুরনো। ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ঠোঁট লাল করার প্রচলন শুরু হয়। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার রানী পুয়াবি (শুবাদ নামেও পরিচিত) সাদা সিসা ও গুঁড়া লাল পাথর মিশিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। এটি ছিল তার ক্ষমতার প্রতীক। এ ধারা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দেখা গেছে বহু সমৃদ্ধ সুমেরীয় নারী ওষ্ঠরঞ্জনীসহ সমাধিস্থ হয়েছেন। প্রাচীন মিসরের অভিজাতরা রজনের সঙ্গে লাল ওকার মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য লাল রঙ তৈরি করতেন। রানী ক্লিওপেট্রা পছন্দ করতেন কারমাইন—গভীর লাল এক রঞ্জক, যা কোচিনিল পোকা থেকে নিষ্কাশন করা হয়।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত ইগল হাসপাতালে

ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের পণ্য

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনিশ্চয়তা

খাতুনগঞ্জে কমেছে চিনির দাম 

এলো অ্যাপল-অ্যান্ড্রয়েডে ফাইল শেয়ারের সুবিধা

পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসে কেন

কারাগারে অসুস্থ হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীরের ঢামেকে মৃত্যু

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ওভারে জয়, সিরিজে সমতা বাংলাদেশের

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: প্রেস সচিব

এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে মোহাম্মদ ইসমাইলের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত

বিনিয়োগ-উৎপাদনই টেকসই পথ, ঋণ নির্ভরতা নয়: আমির খসরু